নেভাডা মরুভূমির গভীরে, লাস ভেগাস থেকে প্রায় ৮৩ মাইল উত্তরে, বিশ্বের অন্যতম গোপন সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত: এরিয়া ৫১(Area 51)। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি গ্রুম লেক বা হোমি এয়ারপোর্ট নামে পরিচিত, তবে কয়েক দশক ধরে এটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, ইউএফও দর্শন এবং সরকারি গোপনীয়তার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, মার্কিন সামরিক বাহিনী শত্রুদের নজর এড়িয়ে বিমান পরীক্ষা করার জন্য কয়েকটি দুর্গম এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করেছিল। এর মধ্যে একটি ছিল গ্রুম লেক, নেভাডা মরুভূমির একটি শুকনো লবণ হ্রদ। কিন্তু এর সত্যিকারের গুরুত্ব শুরু হয় ঠান্ডা যুদ্ধের সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রযুক্তিগত ও সামরিক আধিপত্যের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল।
১৯৫৫ সালে, সিআইএ (CIA) এবং লকহিড মার্টিন কোম্পানি তাদের নতুন U-2 স্পাই প্লেন পরীক্ষা করার জন্য একটি গোপন স্থান খুঁজছিল। এই বিমানটি সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর নজরদারির জন্য তৈরি হয়েছিল এবং এটি ছিল অত্যন্ত গোপন প্রকল্প।প্রেসিডেন্ট ডুইট ডি. আইজেনহাওয়ার এই ঘাঁটির অনুমোদন দেন এবং এটি এরিয়া ৫১ নামে পরিচিত হয়। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কর্মীদের বিমানে উড়িয়ে আনা হয়, এবং এখানে কাজ শুরু হয় অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে।
গোপন বিমান ও পরীক্ষাএরিয়া ৫১-এ শুধু U-2 বিমানই নয়, পরবর্তী কয়েক দশক ধরে অনেক অত্যাধুনিক সামরিক বিমান তৈরি ও পরীক্ষা করা হয়েছে,
যেমন:
- A-12 OXCART – SR-71 ব্ল্যাকবার্ডের পূর্বসূরী, এটি ছিল ম্যাক ৩ গতির গুপ্তচর বিমান।
-SR-71 ব্ল্যাকবার্ড – একটি দ্রুতগামী স্পাই প্লেন, যা মিসাইলের গতিও ছাড়িয়ে যেতে পারত।
-F-117 নাইটহক– বিশ্বের প্রথম স্টেলথ ফাইটার, যা ১৯৭০-এর দশকে পরীক্ষিত হয়।
এই সব বিমানের গোপন পরীক্ষার কারণে অনেক মানুষ অদ্ভুত আলো এবং দ্রুতগামী বস্তু আকাশে দেখেছে, যা পরে ইউএফও (UFO) রহস্যের জন্ম দেয়।১. রসওয়েল ঘটনা (১৯৪৭)
এরিয়া ৫১ প্রতিষ্ঠার আগেই, ১৯৪৭ সালে রসওয়েল, নিউ মেক্সিকোতে একটি রহস্যময় কিছু আকাশ থেকে ভেঙে পড়ে। প্রথমে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছিল যে তারা একটি উড়ন্ত চাকতি (Flying Disc) উদ্ধার করেছে, কিন্তু পরে তারা দাবি করে এটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের বেলুন।
অনেকেই মনে করেন, সেটি ছিল একটি ভিনগ্রহের মহাকাশযান, যা পরে এরিয়া ৫১-তে নিয়ে গিয়ে গোপনে পরীক্ষা করা হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে এটি প্রজেক্ট মোগুল নামে এক গোপনীয় সামরিক কর্মসূচির অংশ ছিল বলে জানা যায়, তবুও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব থামেনি।
২. বব লাজারের দাবি (১৯৮৯)
১৯৮৯ সালে, বব লাজার নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন যে তিনি S-4 নামে এক গোপন ফ্যাসিলিটিতে কাজ করেছেন, যা এরিয়া ৫১-এর কাছাকাছি অবস্থিত।তিনি দাবি করেন যে:
-নয়টি ভিনগ্রহের মহাকাশযান সেখানে গোপনে রাখা আছে।
- সেখানে এলিয়েন প্রযুক্তি গবেষণা চলছে।
- এলিয়েনদের ব্যবহার করা Element 115 নামক এক নতুন পদার্থ পরীক্ষা করা হয়েছিল, যা মহাকর্ষ-বিরোধী শক্তি তৈরি করতে পারে। অনেকে তাকে প্রতারক মনে করলেও, তার কথার কিছু অংশ সত্য বলে মনে করা হয়, কারণ Element 115 সত্যিই ২০০৩ সালে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন (যা পরে "মস্কোভিয়াম" নামে পরিচিত হয়)।
অবশেষে, ২০১৩ সালে, সিআইএ প্রথমবারের মতো এরিয়া ৫১-এর অস্তিত্ব স্বীকার করে, তবে এটিকে শুধু গোপন সামরিক বিমান পরীক্ষার স্থান বলে উল্লেখ করা হয়।
আজব ইউএফও (UFO)দর্শন
অনেক পাইলট ও সাধারণ মানুষ এরিয়া ৫১-এর আকাশে দ্রুতগামী, অদ্ভুত আলো ও অচেনা উড়ন্ত বস্তু দেখার দাবি করেছেন। কিছু বিখ্যাত অজ্ঞাত বস্তু দর্শনের ঘটনা হল:
- ২০০৪ সালের "টিক-ট্যাক" ইউএফও – নৌবাহিনীর পাইলটরা আকাশে অত্যন্ত দ্রুত চলমান এক অদ্ভুত বস্তু দেখতে পান।
- গ্রুম লেকের উপরে রহস্যময় আলোর দৃশ্য।
- ত্রিভুজাকার বা চাকতি আকৃতির বস্তু উড়তে দেখা গেছে।
২০১৯ সালে, এক মজার ফেসবুক ইভেন্ট শুরু হয়: "Storm Area 51, They Can't Stop All of Us। "
প্রায় ২০ লাখ মানুষ এই ইভেন্টে যোগ দেয়, যেখানে বলা হয়েছিল, "চল সবাই একসাথে দৌড়ে এরিয়া ৫১-তে ঢুকে পড়ি এবং সত্যটা উন্মোচন করি!" তবে, মার্কিন সামরিক বাহিনী কড়া হুঁশিয়ারি দেয় যে, যে কেউ বেআইনিভাবে প্রবেশ করলে কঠোর শাস্তি পাবে।যখন দিনটি আসে, মাত্র ১৫০ জন সত্যিকারের লোক উপস্থিত হয়, এবং মাত্র ২ জন গ্রেফতার হয়। যদিও এটি একটি মজার ঘটনা ছিল, এটি আবারও এরিয়া ৫১-এর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।
- স্টেলথ প্রযুক্তির উন্নয়ন।
- হাইপারসোনিক বিমান।
-স্বয়ংক্রিয় ড্রোন গবেষণা।
পিরামিড কি ভিনগ্রহের প্রাণীরা বানিয়েছিল?